গাঁদা ফুলের ৯ টি ঔষধি গুণ

0
3511
Print Friendly, PDF & Email

ফুলের সৌন্দর্য মনের ক্ষুধা মেটায়। গাঁদা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ফুল। সাধারণত এটি শীতকালীন ফুল হলেও বর্তমানে গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালেও চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বন ও গৃহসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার। গাঁদা ফুলে আছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল ও বিটা ক্যারোটিন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

শুধু কেবলই কি সাজ সজ্জায় এর ব্যবহার হয়? মোটেই না! বরং নানান রকম ঔষধি ক্ষমতা আছে গাঁদা ফুলের। আসুন গাঁদা ফুলের নানান ধরণের ঔষধি গুণের সাথে পরিচিত হই-

১. ক্ষত ও আঘাত-

গাঁদা ফুলের পাতার রস কাটাঁ, ক্ষত, ঘা এবং পাওয়া আঘাত সারাতে অত্যন্ত কার্যকরী। হঠাৎ শরীরে কোথাও কেটে গেলে গাঁদা ফুলের পাতা ঘষে বা বেঁটে সে কাটা জায়গায় প্রলেপ দিলে তৎক্ষণাৎ রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়, ব্যথা কমে যায় ও তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে। পাতার রস দিয়ে ঘাঁ দুয়ে দিলে দ্রুত তা সেরে যায়।

২. কান পাকা রোগ-

বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা গোসলের সময় পানি নিয়ে খেলা করে আর খেলা করতে করতে পানি কোন ফাঁকে কানে চলে যায় বাচ্চারা বুঝতে পারেনা যার কারণে বাচ্চাদের কান পাকা রোগ হয়। গাঁদা ফুলের পাতার রস কান পাকা রোগ ছাড়াও ছত্রাকনাশক হিসেবে বেশ কার্যকরী।

৩. টিউমার নিয়ন্ত্রণ-

গাঁদা ফুলের নির্যাস টিউমারের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিক চিকিৎসা তো বটেই- টিউমারের মত কঠিন রোগ ও সারিয়ে তুলতে পারে।

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধ-

বেশ কিছু গবেষণায় জানা গিয়েছে যে গাঁদা ফুল ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। গাঁদা ফুলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাভনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও রোধ করতে সক্ষম গাঁদা ফুলের নির্যাস।

৫. মারাত্মক নেমাটোড-

জমিতে গাঁদা গাছের শুকনা গুড়া বা অপ্রয়োজনীয় অংশ প্রয়োগ করে নেমাটোডের মতো মারাত্মক রোগের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৬. সুগন্ধি তৈরি-

বিভিন্ন ধরনের তেল ও সুগন্ধি তৈরি করতে গাঁদা ফুলের রস রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।

৭. গাঁদা ফুলের চা-

গাঁদা ফুলের চা মূলত ঔষধি গুণের জন্য সুপরিচিত বিভিন্ন দেশে। হাড়ের ক্ষয় রোধ ও আর্থাইটিসের সমস্যা কমাতে গাঁদা ফুলের চা ভূমিকা রাখে। এই চা নিয়মিত খেলে ত্বক হবে মসৃন ও ব্রণ মুক্ত। এটা হজমে সহায়ক, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা উপশম করে।

৮. পাইলস ও অর্শের রোগ-

গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি সামান্য মাখনের সাথে মিশিয়ে অল্প পরিমাণে কয়েকদিন খেলে পাইলস বা অর্শের রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

৯. মাসিক নিয়মিত করে-

অনেক নারীদেরই মাসিক অনিয়মিত। যাদের মাসিক নিয়মিত হয় না তারা প্রতিদিন সকালে গাঁদাফুলের চা খেলে নিয়মিত মাসিক হবে। এছাড়াও গাঁদা ফুলের চা মাসিকের সময় পেট ব্যাথাও কমিয়ে দিতে সহায়ক।

আমরা গাঁদা ফুলের গা্ছ আমাদের আঙিনায় রেখে একদিকে যেমন পেতে পারি স্বর্গের আনন্দ অন্যদিকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও পরিবেশ সম্মতভাবে সারিয়ে তুলতে পারি আমাদের অসুখগুলো।

আরও জানুন » চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় ১০টি সহজ ও কার্যকরী পরামর্শ »

Comments

comments