ভোঁদড় ও জেলেদের এ যেন এক যুগ-যুগান্তরের সম্পর্ক

0
571
ভোঁদড় ও জেলে
ভোঁদড় ও জেলে
Print Friendly, PDF & Email

ভোঁদড়, এক বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী। এদের খাদ্য, মূলত মিঠা পানির মাছ। যার পর্যাপ্ততার অভাবে  গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় ভোঁদড়দের সংখ্যা এখন খুবই নগন্য। কিন্তু এই প্রজাতিকে রক্ষায় বাংলাদেশ এর সুন্দরবন সংলগ্ন জেলেরা এক দারুণ পারস্পারিক নির্ভরশীলতার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকেছে যুগ-যুগান্তর ধরে, বংশ পরম্পরায়।

ভোঁদড়দের ব্যবহার করা হয়ে থাকে মাছ ধরার ক্ষেত্রে। এই কৌশলটা বা ভোদড়ঁদের প্রশিক্ষন দেয়াটা চলে এসেছে অনেক আগে থেকেই। বাবা থেকে সন্তান, সন্তানদের থেকে তাদের সন্তানদের এভাবে চলে আসছে বহুকাল ধরে। প্রথমে জেলেরা জাল ছড়িয়ে দেয় একটি নির্দিষ্ট এলাকা জুড়ে, তারপর দুটি ভোদঁড়কে নামিয়ে দেয়া হয় পানিতে যারা মাঝ নদী থেকে মাছের ঝাককে তাড়িয়ে নিয়ে আসে তীরের কাছাকাছি ঠিক জালের ভিতরে। তারপর আরো কয়েকটি ভোদঁড়কে নামিয়ে দেয়া হয় যারা মাছেদের ঝাককে বিশৃঙ্খল করে দেয় এবং এদিক ওদিক ছুটতে থাকা মাছেরা তখন আটকে যায় জালের মধ্যে। এ যেন, এক অসাধারন বন্ধুত্ত্ব।

এভাবে জেলেরা অনেক বেশি পরিমাণে মাছ ধরতে পারে এবং এই বুদ্ধিবৃত্তিক দলগত প্রচেষ্টার পর যখন জাল থেকে মাছগুলো ছাড়িয়ে পাতিলে বা টুকড়িতে রাখা চলতে থাকে, তখন ভোদড়ঁগুলো নৌকার উপর ঘাপটি মেরে বসে থাকে তাদের পুরষ্কারের আশায়। আর সেই পুরষ্কারটি হল সদ্য শিকার করা মাছ যা তাদেরকে খুশি মনে দেয়া হয় প্রাপ্ত মাছগুলো থেকে। তারপর দল বেধে ভোজনের পালা।


এই পারষ্পারিক মিথষ্ক্রিয়া চলে আসছে বহুকাল-বহুযুগ ধরে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্নান্য দেশগুলোতে ভোদড়ঁ প্রায় নিশ্চিহ্ন, কিন্তু বাংলাদেশে এরা এখনো টিকে আছে এবং আরো বহুদিন থাকবে যদি এই পারস্পারিক নির্ভরশীলতার বেড়াজাল চলমান থাকে।

Comments

comments