মে দিবসের ইতিহাস ও জানা-অজানা কিছু তথ্য

0
965
Garment workers shout slogans during a rally demanding an increase to their minimum wage in Dhaka September 21, 2013. About 50,000 garment industry workers held their largest protest so far in the Bangladeshi capital to demand an increase of more than 1-1/2 times in the minimum wage, police and labour officials said on Saturday. REUTERS/Andrew Biraj (BANGLADESH - Tags: BUSINESS POLITICS EMPLOYMENT TEXTILE SOCIETY CIVIL UNREST)
Print Friendly, PDF & Email

নতুন প্রজুন্মের অনেকেই মে দিবস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখে না এবং তাদের কাছে এটা নেহায়েত একটি আন্তর্জাতিক দিবস ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত আর কিছু না। তাই  যারা আমরা জানি না এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে মে দিবস তথা শ্রমিক দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করতে এই প্রয়াস।

মে দিবসের উতপত্তির ঘটনা

ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে শ্রমিকগণ ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলরত থাকে দৈনিক ৮ ঘন্টা করে কাজের দাবিতে । সে সময় কর্ম পরিবেশ ছিল যাচ্ছেতাই আর তাদের গড়ে দৈনিক ১০-১৬ ঘন্টা করে কাজ করতে হত অনিরাপদ কর্মক্ষেত্রগুলোতে। কর্মক্ষেত্রে আহত ও নিহত হওয়া দৈনন্দিন ব্যাপার ছিল। ১৮৬০ সালের শুরুর দিকে শ্রমিকেরা দাবি তুলে পারিশ্রমিক না কমিয়ে দৈনিক ৮ ঘন্টা করে কর্মঘন্টা ঠিক করার কিন্তু ১৮৮০ সালের শেষের দিকের আগ পর্যন্ত তারা এই দাবিকে জোরালো ভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে পারেনি। প্রায় প্রতিটি শ্রমিক শ্রেনীই এই দাবির প্রতি তাদের সমর্থন জানালেও মালিক পক্ষ এতে সম্মতি দেয় নাই তখনো।


সে সময় শ্রমিকদের কাছে সমজতন্ত্র ছিল একটি নতুন এবং আকর্ষণীয় ধারণা। বহু শ্রমিক তখন এই সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জিবীত হতে থাকে। তারা বুঝতে পারে যে, পুঁজিবাদ শুধু মালিক পক্ষকেই লাভবান করে যারা কিনা আসলে তাদের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে দিন দিন আরও ধনী হচ্ছিল। আর অন্যদিকে, প্রতি বছরই বহু নারী, পুরুষ এমনকি শিশু শ্রমিকেরা নিরাপত্তাহীন কর্মক্ষেত্রে কাজ করে মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছিল, তাদের মধ্যে কিছু কল-কারখানাতে গড়ে বিশ বছরের নিচে মৃত্যুহার ছিল। (ভয়াবহ পরিস্থিতি!)

সমজতন্ত্র দেখালো নতুন পথ

ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক সংগঠনের আবির্ভাব ঘটে। তাদের মধ্যে কোনো কোনো সমাজতন্ত্রী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিতীমালা অনুযায়ী নির্বাচিতও হয়। কিন্তু তারা শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে খুব একটা সফল হতে পারেনি এবং এর পিছনে ছিল বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল গুলোর যোগ-সাজেশ। এভাবে চলতে চলতে এক পর্যায়ে সমাজে শুরু হয়ে বিশৃংখলা ও অরাজকতা।

পরবর্তীতে এসব শ্রমিক সংগঠনগুলোর জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয় শিকাগোতে ১৮৮৪ সালে, যেখানে the Federation of Organized Trades and Labor Unions (যা পরবর্তীতে নামকরণ হয় the American Federation of Labor) এর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে “১৮৮৬ সালের ১ লা মে থেকে ৮ ঘন্টা করে কর্মঘন্টা নির্ধারিত করা হোক”

তারপর কেটে যায় দিন গুলো, চলতে থাকে আন্দোলন, যেটাকে বিভিন্নভাবে দমানোর চেষ্টা চলতে থাকে পুঁজিবাদিদের দ্বারা। তারা এটাকে অরাজকতার নামে নামাঙ্কিত করে কলুষিত করার প্রয়াস চালাতে থাকে। কিন্তু শ্রমিকদের সেই ন্যায্য দাবিকে কেউ দমায় রাখতে পারেনি। অবশেষে সেই ১ মে, ১৮৮৬ সালে শুধু শিকাগোতেই প্রায় ৮ লক্ষাধিক শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে কাজ বন্ধ করে। শান্তিপূর্ণ সেই আন্দোলনে হঠাত করেই পুলিশ গুলি ছুড়ে যাতে ১ জন আন্দোলনরত শ্রমিক নিহত, ৫-৬ জন মারাত্মক জখম এবং অগণিত শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হয়। এরপর কয়েক বছর পেরিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের “দৈনিক আট ঘন্টা কাজ করার” দাবী বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়। আর তখন থেকেই প্রতি বছর ১ লা মে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক আন্দোলন ও আত্মাহুতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরন রেখে পালিত হয়ে আসছে।

তথ্য সংগ্রহঃ

http://libcom.org/history/1886-haymarket-martyrs-mayday

http://www.iww.org/history/library/misc/origins_of_mayday

 

আরও জানুন » শিশুর নৈতিকতা ও মেধার বিকাশে পরিবারের ভূমিকা »

Comments

comments