লুবনা’স কেক এবং দাতব্য সেবা

0
419
রোকসানা হাবীব লুবনা
রোকসানা হাবীব লুবনা
Print Friendly, PDF & Email

অসহায় ও দুস্থদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে মানুষ পরিচয়টাই মুখ্য। জাতি। ধর্ম, বর্ণ সব বিষয়কে তুচ্ছ করি। প্রয়োজনটাকেই বড় বিবেচনায় আর্থিকসহ সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করি।

নিজ উদ্যোগে পরিচালিত দাতব্য সেবা সম্পর্কে এভাবেই অভিমত ব্যক্ত করলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী রোকসানা হাবিব লুবনা

লুবনার দাতব্য সেবা একটু আলাদা। নিজের উপার্জিত ও হাত খরচের সঞ্চয় করা টাকাই দাতব্য সেবার মূলধন। দূর প্রবাসে থাকার পরেও দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা ও ভালোবাসা অসীম। তিনি বলেন, আমি একটি উন্নত দেশে থাকছি, অনেক রকম সুবিধা ভোগ করছি। ভাবি, আমার দেশে কত লোক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে না অর্থের অভাবে। অসুস্থ মানুষের কষ্ট আমাকে ভীষণ নাড়া দেয়। তাই নিজে যা রোজগার করি, তার পুরোটাই দাতব্য সেবায় বিলিয়ে দেই। জানালেন, ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর একটা চাকরি করতেন। সেই চাকরি থেকে উপার্জিত অর্থ আর হাত খরচ থেকে সঞ্চয় করা টাকা দিয়ে কেক বানানো শুরু করেন বেশি টাকা উপার্জনের আশায়। তার কথা, টাকা না থাকলে তো সেবা করতে পারব না। কেক বানানোটা শখের বিষয় ছিল। জার্মানিতে থাকাকালীন নরওয়েজিয়ান এক ভদ্রমহিলার কেক বানানো দেখে শখটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর এ বিষয়ে প্রচুর পড়াশোনাও করেছেন। এখন রীতিমতো গবেষণা করছেন এবং নিত্যনতুন রেসিপি উদ্ভাবন করছেন।

নিজ উদ্ভাবিত বাহারি রকমের সুস্বাদু কেক এখন ইংল্যান্ডে বাঙালি কমিউনিটি ছাড়াও ইংল্যান্ডের অধিবাসীদের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘লুবনা’স কেক’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। আয়ও হচ্ছে বেশ ভালো।

লুবনা জানান, কেক বিক্রির সব অর্থই তিনি ব্যয় করেন মানবসেবা বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার কাজে। ইংল্যান্ডে ক্যান্সার গবেষণা ও বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তসহ দুস্থদের জন্যই মূলত ব্যয় হয় এ অর্থ। ‘মূলধন ফেরত কিংবা কেক বিক্রির টাকা থেকে মুনাফা লাভের চিন্তা কখনোই মাথায় আনিনি’ – বলেন সদা হাস্যোজ্জল এ সৃজনশীল নারী।

লুবনা জানান, ইংল্যান্ডে দাতব্য সেবার ক্ষেত্রে সংগৃহীত অর্থের ৬০ ভাগ নিজেদের ব্যবস্থাপনা আর বাকি ৪০ ভাগ ব্যয় হয় দাতব্য সেবায়। ব্যাপারটি অনেকটাই নেতিবাচক। যদিও ক্যান্সারে আক্রান্তদের চিকিতসার সম্পুর্ণ খরচই সরকার বহন করে। বিষয়টি জানার পর কেক বিক্রিত অর্থের একটা অংশ ইংল্যান্ডে ক্যান্সার গবেষণার কাজে দিয়ে থাকেন। বাকি অর্থ ব্যয় করেন বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তদের চিকিতসায়।

তিনি বলেন, ‘একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও বাচাঁর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে অসুস্থ ব্যাক্তিকে বাচাঁনোর চেষ্টা করেন। আমার সামান্য অর্থ হয়তো খুব বেশি কাজে লাগে না তাদের। তবে তারা নিশ্চয় উতসাহিত হন। প্রেরণা দেওয়াও তো বড় একটি বিষয়।’ ‘আমাকে দেখেও যদি কেউ একজন এমন সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসেন – এটাই আমার সাফল্য, আনন্দ’ – বললেন তিনি।

বাগেরহাটের মেয়ে লুবনা পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া বাংলাদেশ ডিজাইন ইনস্টিটিউট থেকে ফ্যাশন ডিজাইনে ডিপ্লোমা করেন। স্যালফোর্ড কলেজ, ম্যানচেষ্টার, ইউকে থেকে করেন টিচিং এসিস্ট্যান্ট বিষয়ক ডিপ্লোমা কোর্স। অবসরে বই পড়েন। আর নিজের উদ্ভাবিত কেকের রেসিপি লেখেন।

বাচ্চাদের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত সীমিত পরিসরেই তার সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এরপর বাংলাদেশে এসে লুবনাস কেক নামে ব্যাবসা শুরু করার ইচ্ছা তার। ব্যাবসার মূলধন এবং লাভের ৪০ শতাংশ ব্যয় করার ইচ্ছা তার দেশের ক্যান্সারে আক্রান্তদের জন্য। পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তরুণীদের এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিঃ দ্রঃ প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতি বার রোকসানা হাবিব লুবনার লেখা লুবনা’স কেক ও অন্যান্য রেসিপি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে শুধুমাত্র বাঙালিয়ানা Magazine এ। আর খুব সম্ভব “লুবনা’স রেসিপি” শিরোনামে আগামী বইমেলা ২০১৫ তে একটি বই আসবে যেখানে তার লেখা প্রায় অনেকগুলো রেসিপি আপনার পেতে পারেন একসাথে। তাই থাকুন বাঙালিয়ানা Magazine এর সাথেই 🙂

Comments

comments