অদ্ভুত ছবিগুলো (৯)

0
278
আলী আহসান রচিত অদ্ভুত ছবিগুলো উপন্যাস
আলী আহসান রচিত অদ্ভুত ছবিগুলো উপন্যাস
Print Friendly, PDF & Email

অদ্ভুত ছবিগুলো (৮) পড়ুন এখানে ক্লিক করে

 

আচ্ছা ঢেউ, তোমার কি কোনও কাজ আছে?

না। তেমন কোনও কাজ নেই ত্রিরঞ্জনদা। কেন, আর কিছু বলবেন?

তেমন কিছু না, আসলে ব্যাপারটা নিয়ে আমার মাথাটা খুব এলোমেলো লাগছিল। বুঝতে পারছিলাম না কেন এমন হচ্ছে। কিন্তু তোমার সাথে কথা বলার পর নিজেকে খুব হালকা লাগছে।

খুব ইচ্ছা করছে তোমার সাথে আরো কিছুক্ষন গল্প করে তারপর যাই। এখান থেকে যাবার পর যদি আবার আগের মতন মাথাটা এলোমেলো লাগে! তবে তোমার কাজ থাকলে আমি আর বসব না।

ঢেউ এর কি যেন হল। ত্রিরঞ্জন এলে ওর নিজেরই ইচ্ছা হয় যেন অনেক্ষন থাকে। কিন্ত কখনও ওর এই ইচ্ছাটা ত্রিরঞ্জনদাকে বুঝতে দিতে ইচ্ছা হয় না, কারন ও নিজেই ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কেন এমন হয় ওর ইদানিং। আগে তো কখনও এমন হত না! 

আমার তেমন কোনও কাজই নেই, বসে বসে টিভি দেখা আর বই পড়া ছাড়া।  আপনি বসেন, আমি আরও একবার চা বানিয়ে নিয়ে আসি?

একটা হাসি দিয়ে ত্রিরঞ্জন বলল, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ঢেউ। অনেক্ষন কথা বলে এখন খুব চা খেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। বলেই একটু হাসল ত্রিরঞ্জন। 

হাসিটা দেখে ঢেউ এর খুব ইচ্ছা হল ত্রিরঞ্জনকে বলে যে ওর খুব ভাললাগছে ভাবতে যে ত্রিরঞ্জন আরও কিছুক্ষন থাকবে কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রন করল। শুধু একটু স্মিত হাসল ওর দিকে তাকিয়ে।

কেন বলতে পারবে না, তবে ঢেউ এর এই হাসিটা ত্রিরঞ্জনের অনেক ভেতরের কিছু একটা স্পর্শ করে গেল। নিজের অজান্তেই ওর মনে হল এই মুহুর্তে ঢেউ এর চেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু পৃথিবীতে আর কেউ নেই। প্রশান্তির একটা বাতাস মনে হল মনের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঢেউ চলে গেলে, কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থাকল ত্রিরঞ্জন। ভাবল, আসলেই তো বোকার মতন হাবিজাবি চিন্তা করেছে। অজানা কারনে এমন অদ্ভুত ঘোরের ভেতর চলে যায় বলেই হয়ত অশুভ চিন্তাভাবনা উঁকিঝঁকি মেরেছে মনের ভেতর। 

এরই মধ্যে ঢেউ চা নিয়ে চলে এসেছে। এই নিন গরম গরম চা ত্রিরঞ্জনদা, বলে ওর সামনে চায়ের মগটা রাখল ঢেউ।

এই প্রথম ঢেউ অনেক সময় নিয়ে ত্রিরঞ্জনের সাথে গল্প করল। ত্রিরঞ্জনের সাবলিলভাবে কথা বলা, গভীরভাবে কোনও কিছু ব্যাখ্যা করা সবকিছু খুব মনযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছে। 

ঢেউ নিজেই ভীষন অবাক হয়েছে আজ। অনুভব করল ত্রিরঞ্জনের অসহায়ত্ব। এলোমেলো মানসিক অবস্থার ভেতরে থেকেও কি অদ্ভুত সুন্দর অনায়াসে ত্রিরঞ্জন তার কথাগুলো বলে গেল ওর কাছে অথচ ও নিজে কি পারবে এমন অনায়াসে নিজের মনের কথাগুলো বলতে? ওর নিজের ভেতরও তো ইদানিং অদ্ভুত অনুভুতিগুলো ভর করে যা ওর নিয়ন্ত্রনের বাইরে। তখন ওর খুব অসহায় লাগে, নিজের অজান্তেই তখন খুব ভাললাগে।

চা খেতে খেতে ত্রিরঞ্জন অনেক্ষন কথা বলে একটু থামল। তারপর কেন যেন সময়টা একটু থেমে দাড়াল কারন কিছুক্ষন হল দু’জনের কেউই কোনও কথা বলছেনা, শুধু নিরবে চা পান করে যাচ্ছে ।   

ঢেউ এর স্বত্তার ভেতরে, অনেক গভীর কোনও উপত্যাকায় অসংখ্য সব নিয়ন্ত্রনহীন অনভুতিরা ছুটোছুটি করছে। মনে হচ্ছে সুরের মুর্ছনায় প্রত্যেকটা অনুভুতি এক একটি নৃত্যকলার প্রদর্শন। কিছু কিছু অনুভুতি কত্থ্যক নৃত্যের মতন উদ্দাম গতিতে ওর শিরা উপশিরায় বয়ে যাচ্ছে। শুধু অনভুব করতে পারছে, ধমনির প্রতিটি অনুতে পরমানুতে সেই উদ্দাম গতি। ভাললাগা আর নিয়ন্ত্রনহীন অনভুতিদের বেপরোয়া যাতায়াত ওকে বেশ লজ্জিত করে তুলল।

অথচ ত্রিরঞ্জনের মতন করে সাবলিলভাবে বলতে পারল না ওর নিয়ন্ত্রনহীন অনুভুতিগুলোর কথা, ইদানিং তাদের অহর্নিশি বিচরন আর উল্কাপাতের মতন ইতস্তত নাচানাচির কথা। বলতে পারল না, ওর কৃতজ্ঞতার কথা। শুধু মিষ্টি হেসে ত্রিরঞ্জনকে আস্বস্ত করল। 

খুব আয়েশ করে মগে চুমুক দিতে দিতে হঠাৎ ত্রিরঞ্জন বলল, গরম চা  এর কোনও তুলনাই নেই, তাই না?

একদিম ঠিক বলেছেন। আমারতো সারাদিনে কতবার যে চা খাওয়া হয় তার হিসেব নেই। বাবা সবসময় বলেন, এত চা খাওয়া নাকি ভাল না।

ঠিকই বলেছেন কারন অতিরিক্ত চা অনেকদিন ধরে খেলে অ্যালঝেইমার রোগের সমস্যা হতে পারে।

এটা আপনি কি বলেন? আমার চা খাওয়ার বারোটা বাজিয়ে দেবেন নাকি? কেন হঠাৎ এই রোগের কথা বললেন? সত্যিই কি এমন হয় নাকি আমাকেও অশুভ ভয় দেখাচ্ছেন? 

এই প্রথম সেই আগের মতন হো হো করে হেসে উঠল ত্রিরঞ্জন। হাসি থামিয়ে বলল, চা এর পাতায় খুব অল্প পরিমান হলেও একরমের অ্যালুমিনিয়ামের উপাদান থাকে। প্রতিদিন যারা খুব বেশী চা খায় তাদের রক্তে তখন এটার পরিমান খুব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আমাদের শরীর কখনই  অ্যালুমিনিয়াম উপাদান হজম করতে পারে না এবং এটা শরীর থেকে বের ও হতে পারে না।

কি বলেন এইসব? আমি কি তাহলে প্রতিদিন  অ্যালুমিনিয়াম খাচ্ছি? কিন্তু অ্যালুমিনিয়ামের সাথে অ্যালঝেইমারের কি সম্পর্ক?

আসলে অ্যালুমিনিয়ামের কারনে যে অ্যালঝেইমারের উপসর্গ দেখা দেয় তা-না। অ্যালুমিনিয়াম উপস্থিতি তোমার ব্রেনের নিউরনে কিছুটা অসামঞ্জস্যতা তৈরী করে। ধীরে ধীরে আমাদের ব্রেন স্মৃতি শক্তি, চিন্তার স্বাভাবিক গতি, প্যাটার্ন এসব হারাতে থাকে। আর এটাই হল অ্যালঝেইমারের উপসর্গ। 

ঢেউ এর জন্য এই তথ্য নতুন। খুব ব্যাথিত মনেই ও বলল, তাহলে তো আর এই পরিমান চা খাওয়া চলবে না! ঠিক আছে, এখন থেকে চা এর পরিমান কমিয়ে ফেলব ত্রিরঞ্জনদা ।

শুধু এটাই না, অতিরিক্ত চা পানে শরীরে Oxalates  এর পরিমান বেড়ে যেয়ে কিডনিতে পাথরও জমে।

কিন্ত আপনি এসব জানেন কিভাবে? চা এর উপর কি থিসিস করছেন নাকি?

কি যে বল তুমি! চা এর উপর থিসিস করব কেন? আমাদের ফিজিক্স ক্লাসে একটা বিষয়ে পড়ানোর সময় আমাদের স্যার বলেছেন কথাগুলো। পরে অবশ্য আমি একটু অনুসন্ধানও করেছিলাম, তখন জানতে পারি ব্যাপারগুলো।

আচ্ছা! ভালই হল আপনি বলাতে। আমি সত্যি সত্যি চা কমিয়ে ফেলব, আর অ্যালুমিনিয়াম খেয়ে কাজ নেই। এইসব রোগবালাই নিয়ে থাকার কথা আমি ভাবতেই পারি না ত্রিরঞ্জনদা।

কে-ই বা ভাবতে পারে বল? অসুস্থতা ত্যাগ করা যায় না কিন্তু অভ্যেস ত্যাগ করা যায়।

দারুন বললেন তো! এভাবেতো কখনই ভাবিনি! আপনার আসলে ফিজিক্স না পড়ে ফিলসফি পড়া উচিৎ ছিল! বলেই হেসে ফেলল ঢেউ।

সত্যি কথা কি জান? একটা সময় পর্যন্ত ফিজিক্স, অ্যাষ্ট্রনমী, বায়োলজী এসব ফিলসফির এক একটা অংশ ছিল। মানুষ তার চারপাশের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষন করত এবং এগুলোর ব্যাখ্যা খোঁজার জন্য তাদের ফিলসফি কাজ করত। সক্রেটিসেরও অনেক আগে গ্রিসের থেলস নামে একজন ফিলসফার ছিলেন। যাইহোক এসব নিয়ে আরেকদিন গল্প করব আমরা, তোমার অনেক সময় নষ্ট করলাম আমি।

কি যে বলেন ত্রিরঞ্জনদা! আমারতো দারুন সময় গেল বরং আপনি চলে যাবেন শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। ঠিক আছে, আপনি যান আর পারলে আজই ওই ভদ্রলোকের সাথে দেখা করেন।

তোমাকে অনেক ধন্যবাদ  ঢেউ। তুমি ভাল থেকো আর মুকুল যদি এরই মধ্যে বাসায় আসে ওকে একবার হাসানের ওখানে আসতে বলবে।

ঠিক আছে, বলব ! আপনি সাবধানে যাবেন।

একটা নিশ্চিন্ত নির্ভরতায় ওখান থেকে বেরিয়ে ত্রিরঞ্জন চলে গেল হাসানের শোরুমের দিকে। 

বৃষ্টিস্নাত ঢাকা শহর ক্লান্ত হয়ে ঝিমিয়ে আছে, আকাশ মেঘলা। জানালা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখা যায় এখান থেকে। অনেক্ষন বিরতি নেবার পর এখন আবার ঝিরিঝিরি ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। কাঁচের জানালার ওপাশে হালকাভাবে বৃষ্টির ছাঁট এসে খেলা করছে। ওসমান সাহেবের সামনে অনেকগুলো ফাইল খোলা পড়ে আছে কিন্তু তিনি তাকিয়ে আছেন বাইরে।

সারারাত বৃষ্টি হয়েছে, সকালেও তার রেশ বেশ কিছুটা ছিল। এমন দিনে কোনও কারন ছাড়াই মন বিষন্ন হয়ে যায়। আর বিষন্নতা নিয়ে কাজে মন বসানো খুব দুরুহ একটা ব্যাপার। অন্যদের ক্যামন লাগে তিনি জানেন না, তবে উনার নিজের এমন হয়।

আজ তিনি ধবধবে সাদা শার্ট পরেছেন, সাথে হালকা ছাইরঙ্গা টাই। কোথাও হয়ত পড়েছেন যে চমৎকার ধবধবে পোশাক নাকি মনে এক রকম উৎফুল্লতা আনে। এই জন্য তিনি আজ ধবধবে সাদা শার্ট পরেছেন, সাথে ম্যাচিং সুট ও টাই। তিনি খেয়াল করেছেন যে ভাল পোশাক পরার কারনে তিনি সবসময় প্রফুল্ল বোধ করেন, বিশেষ করে মেঘলা কিংবা বৃষ্টিস্নাত দিনগুলোতে।

আচ্ছা ! এমনদিনে কি সবারই বিষন্নতা আসে মনে? নাকি এটা উনার নিজের কোনও মানসিক ব্যাধি? কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি কখনও। 

স্কুলে থাকতেই তিনি বাবা-মা হারিয়েছেন, বড় বোনের সাথেই থেকেছেন তারপর থেকে। বোন-দুলাভাই এর কাছ থেকে বরাবরই পেয়েছেন অপরিসীম ভালবাসা। কিন্তু এই ভালবাসা ব্যাপারটার স্থায়িত্ব তার জীবনে সম্ভবত স্বল্পকালীন। তারপরও তিনি জীবনটাকে হাসিখুসি ভাবেই পার করছেন। 

পায়ের আওয়াজ দরজা পর্যন্ত এসে থেমে গেল।

ওসমান সাহেব জানালা থেকে চোখ সরিয়ে দরজার দিকে তাকালেন। মাথা নত করে মাহেরা দাঁড়িয়ে আছে ওখানে, তার এক হাতে দুটো ফাইল আর অন্য হাতে একটা চিরকুট।

ইশারা করতে মেয়েটা ওপাশের চেয়ারে এসে বসল। ফাইল দুটো ওসমান সাহেবের সামনে রেখে চিরকুটটা হাতে নিয়ে বসে রইল।

স্যার! আজ সকালে আপনার জন্য একটা মেসেজ এসেছে, বলে চিরকুটটা বাড়িয়ে দিল মাহেরা।

ওসমান সাহেব ওটা নিয়ে চোখা বোলালেন। হাসান ফোন করেছিল, ম্যাসেজটা মাহেরা লিখেছে ইংরেজীতে, কিন্তু সংক্ষিপ্ত আকারে।

Red Coat Sold. Buyer wants TRJN. ASAP/HASAN

এটার মানে কি?

স্যার, হাসান ফোন করেছিল। জানাল যে, ত্রিরঞ্জনের লাল কোট পরা মেয়েটার ছবি এক ভদ্রলোক কিনেছেন। তিনি খুব শিগ্রিই ত্রিরঞ্জনের সাথে দেখা করতে চান।

ম্যাসেজটাতো তোমাকেই বলতে হল, তাহলে কাগজে লিখে আনার কি দরকার ছিল এটাতো বুঝলাম না।

স্যার, আমার একটু বাইরে যাবার কথা ছিল তাই লিখে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম যাবার আগে আপনার টেবিলে রেখে যাব।

কিন্তু আমার পক্ষে তোমার ওই সংক্ষিপ্ত ম্যাসেজ বোঝার সম্ভাবনা ছিল শুন্য দশমিক শুন্য। তুমি যদি লিখতে Red Coat Painting Sold. Buyer wants to meet Trironjon, ASAP/HASAN তাহলেও আমি বুঝতে পারতাম। যাইহোক, আমি দেখছি এটা। থ্যাঙ্ক ইউ মাহেরা।

ওসমান সাহেব এবার ফাইলে চোখ দিলেন। দুইটা কোটেশানের জন্য বিস্তারিত সব দেওয়া আছে ওখানে। আগামী কালকের মধ্যে জমা দিতে হবে। কয়েকটা আইটেম ছাড়া বাকি সবগুলোর দাম জানা আছে।

ত্রিরঞ্জনকে ফোন করার জন্য ফোনের দিকে হাত বাড়িয়েও তিনি থেমে গেলেন। আর কিছু বলবে মাহেরা?

জ্বী স্যার।

বল, কি বলবে?

স্যার, ওই ছবিটা বিক্রি না করলেও হত।

আমারও তেমনই ইচ্ছা ছিল কিন্তু ত্রিরঞ্জন পাঠিয়ে দিল হাসানকে দেওয়ার জন্য। ওর আঁকা ছবি, সুতারাং কি করবে না করবে ওর ব্যাপার। তাই আমি কিছু বলিনি।

বেশ অনেকদিন আগে ত্রিরঞ্জন কিছু ছবি দিয়ে বলেছিল এগুলো হাসান এসে নিয়ে যাবে। ওসমান সাহেবের অফিস ধানমন্ডিতে এবং হাসানের শোরুমের খুব কাছেই। ছবিগুলো অফিসে আনাবার পর মাহেরা খুব মন দিয়ে দেখেছিল, প্রত্যেকটা ছবিই একদমই অন্যরকম বিশেষ করে ওই লাল কোট পরা মেয়েটার ছবিটা। একদম জীবন্ত একটা ছবি, এমনকি মেয়েটার মুখে লেগে থাকা কষ্টের অভিব্যাক্তিটাও ফুটে উঠেছে। একটা অন্ধকার ও স্বল্প পরিসরের গলি আর তার মধ্যে পড়ে থাকা মেয়েটা – সবকিছু যেন বড্ড বেশী জীবন্ত।

একটা নিঃশ্বাস চেপে মাহেরা উঠে দাড়ালো, তারপর দরজা চেপে দিয়ে চলে গেল নিজের ডেস্কে।

যখন ছবিগুলো অফিসে বসে দেখছিল তখন মাহেরার ইচ্ছা করছিল সবগুলো ছবি রেখে দেয়। কি অদ্ভুত সুন্দর এক একটা ছবি, যেন এক একটা গল্প। একবার ভেবেছিল স্যারকে জিজ্ঞাসা করে যে এর মধ্যে দুই একটা ও কিনে নিতে পারে কিনা। কিন্তু হাসান আগেই ওগুলো নিয়ে নিয়েছে ওর শোরুমের জন্য।

মাহেরা চলে যাওয়ার পর ওসমান সাহেব মন দিলেন ফাইলগুলোতে কিন্ত ঠিক মন বসাতে পারলেন না। ত্রিরঞ্জনের জন্য বেশ ভাবনায় পড়ে গেছেন। ছেলেটার ইউনিভার্সিটি শেষ, এখন ওকে মাষ্টার্স এর জন্য কোথায় পাঠাবেন? একবার ভেবেছিলেন দেশের বাইরে কোথাও পাঠিয়ে দেবেন কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছেন না কি করা উচিত। ত্রিরঞ্জনের সাথে কথা বলে দেখতে হবে ওর কি ইচ্ছা।

এবার প্রথম ফাইলে নজর দিলেন তিনি। এই কম্পিউটারের জামানায়ও তিনি অফিসের সমস্ত কার্যক্রম আজও ওল্ড স্কুল পদ্ধতিতে চালান। ফাইলের  নামকরনের জন্য তিনি ব্যবহার করেন ক্লায়েন্টদের নামের আদ্যক্ষর, তারপর তাদের জন্য বরাদ্দ্বকৃত একটা সংখ্যা।

………………..চলবে

আরও জানুন » অদ্ভুত ছবিগুলো (১০) »

Comments

comments